‎বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হতদরিদ্র পরিবারের কলার বাগান কেটে ফেলার অভিযোগ

‎মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি: ‎দিনাজপুরের বিরামপুরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে হতদরিদ্র এক পরিবারের দখলে থাকা জমিতে লাগানো প্রায় একশত কলার গাছ, কয়েকটি সজনে গাছ ও অন‍্যান‍্য ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মোছাঃ রাজিয়া  গত বৃহস্পতিবার বিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারী মোছাঃ রাজিয়া (৫৫) বিরামপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মাহমুদপুর গ্রামের হঠাৎপাড়া এলাকার এমদাদুল হক (৬০)  এর স্ত্রী।
‎লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, বিরামপুর পৌর শহরের মাহমুদপুর হঠাৎপাড়া এলাকায় নিজেদের বসতবাড়ি সহ ভোগ দখলকৃত ৪৭ শতক জমি নিয়ে  একই এলাকার মৃত রফাত উল্লাহর তিন ছেলে মোঃ নজরুল, মোঃ মতিয়ার, মোঃ মোফাজ্জল এবং মোঃ মতিয়ার এর ছেলে মোঃ এখলাছ ও মোঃ নজরুল এর ছেলে মোঃ ওয়াহেদুল এর সাথে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে। অনেক দিন থেকেই অভিযুক্তরা উক্ত জমি দখলের পায়তারা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত পাঁচজন আরো লোকজন নিয়ে এসে উক্ত জমি দখলের উদ্দেশ্যে জমিতে লাগানো কলার গাছগুলো কেটে ফেলে।
‎অভিযোগকারী মোছাঃ রাজিয়া জানান, তার স্বামী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীণ। তাদের কোন সন্তান জীবিত নেই। দুই মেয়ে ছিল, তারাও মারা গেছে। মৃত এক মেয়ের এতিম দুই ছেলেকে নিয়ে এই জমির এককোণে তারা স্বামী স্ত্রী ভাঙাচোরা কুড়ে ঘরে বসবাস করেন। জমিতে লাগানো কলার বাগানের আয় এবং দিনমজুরি করে কোনমতে তাদের সংসার চলে। এমতাবস্থায় তাদের লাগানো কলার গাছগুলো প্রতিপক্ষরা কেটে ফেলায় সংসার চালানো নিয়ে তারা দুঃচিন্তায় আছেন। তার উপর প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা জমির দখল ছেড়ে দিতে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
‎অভিযুক্তদের একজন মোঃ মতিয়ার মুঠোফোনে জানান, ৪৭ শতক জমিটি তাদের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এবং জমি তাদেরই দখলে রয়েছে দাবি করেন। উক্ত জায়গার মধ্যে বেদখল হওয়া হাফ শতক জায়গার জন্য উচ্ছেদ মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সেই জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো আছে। গাছগুলো যাতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য তারা কলার গাছগুলো কেটেছেন বলে জানান।
‎এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাবার কথা স্বীকার করে বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুপক্ষকেই শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!