চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র চকবাজারের ডিসি রোডের কালাম কলোনী—একটি পরিচিত আবাসিক এলাকা। সেই এলাকাতেই ঘটে গেল এক ন্যক্কারজনক ঘটনা। চ্যানেল এইচডির প্রতিনিধি সাহসী নারী সাংবাদিক মনি আক্তার-এর ওপর সংঘটিত হলো বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর করা হলো তার ব্যবহৃত গাড়ি, এবং তাকে নিজ বাসভবনে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হলো। এ ঘটনা কেবল একজন সাংবাদিকের ওপর শারীরিক আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার বুকে সরাসরি আঘাত। এটি সেই কলমের বিরুদ্ধে হামলা, যে কলম অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, যে ক্যামেরা সমাজের অন্ধকার দিক তুলে ধরে।
ঘটনার বিবরণ : পরিকল্পিত হামলার আশঙ্কা
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সন্ত্রাসীরা আকস্মিকভাবে মনি আক্তারের ওপর আক্রমণ চালায়। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এরপর তাকে নিজ বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। একজন নারী সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এভাবে হুমকির মুখে পড়া প্রমাণ করে—এ হামলা ছিল কেবল ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং তার কণ্ঠরোধের একটি সুস্পষ্ট চেষ্টা। সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের প্রতিবাদ ও সংহতি সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদ (JDC) তাৎক্ষণিক ভাবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে: “নির্যাতিত সাংবাদিকের পাশে আমরা আছি। গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপর হামলা।” তারা প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন— অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে, মনি আক্তারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
চকবাজার থানায় অভিযোগ : এখন প্রশাসনের পরীক্ষার সময় ঘটনার পরপরই চকবাজার থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখন দৃষ্টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসন প্রমাণ করতে পারে—আইনের শাসন এখনও সক্রিয় আছে। সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা প্রত্যাশা করছেন, এ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলার সাহস না পায়।
নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা : একটি জাতীয় প্রশ্ন বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকরা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করেন। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সামাজিক অসঙ্গতি উন্মোচন—সব ক্ষেত্রেই তাদের সাহসিকতা প্রশংসনীয়। কিন্তু এই সাহসের প্রতিদান যদি হয় হামলা ও অবরোধ, তবে তা শুধু লজ্জাজনকই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধেরও পরীক্ষা। মনি আক্তারের ওপর এই হামলা গোটা সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত লড়াই নয়; এটি পেশার মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার সংগ্রাম। আমাদের দৃঢ় অবস্থান আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই সাংবাদিকের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না, সত্য প্রকাশের পথ বন্ধ করা যাবে না অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম আরও শক্ত হাতে ধরা হবে মনি আক্তারের প্রতি সংহতি জানিয়ে আমরা বলি সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত নয়, বরং ন্যায় ও সত্যের পথে আরও দৃঢ় পদক্ষেপই হবে আমাদের জবাব। কারণ, একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হলে কেবল একজন ব্যক্তি নন—আক্রান্ত হয় পুরো সমাজের বিবেক।
