নেছারাবাদের ভোটে জয় পেল পিরোজপুর–২-এ বিএনপির সুমন মনজুর

পিরোজপুর–২ (কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে নাটকীয় ভোটের লড়াই শেষে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন। শেষ মুহূর্তে নেছারাবাদ উপজেলার ফলাফল আসার পর পাল্টে যায় পুরো চিত্র।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন পেয়েছেন ১,০৪,৪১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম বিন সাঈদী, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন, পেয়েছেন ৯৫,১৭৩ ভোট। ফলে ৯,২৪০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সুমন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
শুরুতে এগিয়ে ছিল জামায়াত
নির্বাচনের প্রাথমিক গণনায় কাউখালী ও ভাণ্ডারিয়া—এই দুই উপজেলার ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন শামীম বিন সাঈদী। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুই উপজেলার ফলাফলে তিনি প্রায় ২৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। এতে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভোটার নেছারাবাদ উপজেলার ৭৭টি কেন্দ্রের ফলাফল আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১,৯৭,৯৯৯। এখানকার বড় একটি অংশ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ঘুচিয়ে এগিয়ে যান সুমন এবং জয় নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, পিরোজপুর–২ আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটার রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাদের ভোটের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বড় বিবেচ্য বিষয় হিসেবে কাজ করে।

এবারের নির্বাচনেও সংঘাতমুক্ত পরিবেশ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশা থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশ ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংগঠিত ভোটই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তুলনামূলকভাবে অবহেলিত নেছারাবাদ উপজেলার ভোটাররা দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিজেদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং এলাকার অবকাঠামোগত অগ্রগতির প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অনেকের মতে, এ উপজেলার সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভোটই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সোহেল মনজুর সুমনের বিজয় নিশ্চিত করে।

এখন প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু উন্নয়ন
নেছারাবাদ উপজেলার ভোটে নির্ধারিত এই জয়ের পর এখন সবার নজর নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধির দিকে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অত্র এলাকার অভিভাবক হিসেবে আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি কাটিয়ে একটি স্থিতিশীল ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেছারাবাদসহ পুরো পিরোজপুর–২ আসনের মানুষের আস্থা কতটা ধরে রাখতে পারেন—এটাই এখন দেখার বিষয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর–২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,০৯,২৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,০৪,৩১২, নারী ভোটার ২,০৪,৯৭২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। এছাড়া ৩,৯৯২ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন।

সব মিলিয়ে, প্রাথমিকভাবে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত নেছারাবাদের ভোটে ভর করে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিলেন বিএনপির আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষা থাকলেও বেসরকারি ফলাফলে এই আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত মিলেছে। যেহেতু নেছারাবাদ উপজেলার ভোটাররাই তাকে নির্বাচিত করেছে অতএব এই উপজেলাযর মানুষ তার মাধ্যমে উন্নয়নের স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে।

বদরুজ্জামান সুজন, নেছারাবাদ উপজেলা

Leave a Reply