বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত একটি পাহাড়ের টিলা কেটে সাবাড় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিজ্ঞ আদালত ও স্থানীয় গ্রাম আদালতে মোট চারটি মামলা বিচারাধীন থাকলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে একটি চক্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধনপুর ৯নং ওয়ার্ডের মোকামী পাড়া সংলগ্ন এলাকায় এই পাহাড় নিধনের ঘটনা ঘটে। বাঁশখালী প্রধান সড়ক থেকে মাত্র ১০০ ফিট পূর্বে অবস্থিত ‘চা বাগিচা’ নামক পাহাড়ের বিশাল টিলা স্কেভেটর দিয়ে কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমিটি ২০১২ সালের পরবর্তী সময়ে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলেও প্রভাবশালী পক্ষটি আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীনই দ্রুত পাহাড় কেটে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধনপুরের বিএস ২৫৬ দাগ ও ১৪৯ নং খতিয়ানের এই জমিটি নিয়ে আইনি লড়াই তুঙ্গে। ইতিপূর্বে স্থানীয় নুরুল আলম বাদী হয়ে শামসুল আলমকে বিবাদী করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তদবিরের অভাবে খারিজ হয়। এরপর নুরুল আলমের পুত্র রফিকুল আলম বাদী হয়ে বাঁশখালী আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।উচ্চ আদালতই নয়, স্থানীয় সাধনপুর গ্রাম আদালতেও একই জায়গা নিয়ে দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একটির আবেদনকারী শামসুল আলম এবং অন্যটির আবেদনকারী রফিকুল আলম। এই ৪টি মামলার কোনোটিই এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
পুরনো নথিপত্র অনুযায়ী, এই শামসুল আলম নিজ উপার্জনের টাকায় মায়ের নামে জমি ক্রয় করছিলেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিবাদী শামশুল আলমের ছোট ভাইয়েরা ইতোমধ্যেই স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই জমির বিভিন্ন অংশ তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এই অনিয়মতান্ত্রিক হাতবদল এবং মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশাকে কাজে লাগিয়েই মূলত পাহাড় কাটায় মেতেছে দখলদাররা। এর আগে ১৯/০২/২০২২ ইং তারিখে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো তদন্তস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। কিন্তু আদালতের চূড়ান্ত রায় আসার আগেই পাহাড়ের মানচিত্র বদলে দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী ও পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ‘চা বাগিচা’ পাহাড়টির অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।
