মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় ৩নং আলীহাট ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে দেওয়া ভিজিএফ চাল বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মাঠে উপস্থিত না থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে বসে খোশগল্পে ব্যস্ত ছিলেন। এদিকে সুবিধাভোগীদের চাল ওজনে কম দেওয়া, একই ব্যক্তিকে একাধিকবার চাল দেওয়া এবং সেই চাল পরিষদের বাইরে বিক্রি করার ঘটনাও দেখা গেছে। অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে হাকিমপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু হয়। এ সময় ৩ নম্বর আলীহাট ইউনিয়নে চাল ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ পেয়ে ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক সামিউল ইসলাম, সমকালের সাংবাদিক মুসা মিয়া এবং দৈনিক যায়যায় দিনের সাংবাদিক রমেন বসাক দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য সংগ্রহে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে অন্তত ২০০ গ্রাম করে চাল কম দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল ওজন স্কেলের ওপরও প্রায় ৫০০ গ্রাম চাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওজন স্কেলের পাশে থাকা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিলদার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সাংবাদিকরা দেখার কে?” এ সময় তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সাংবাদিকদের বের করে দেন। এমনকি “জীবনে কত সাংবাদিককে খেয়েছি” বলে হুমকিও দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তিকে একাধিক টোকেন ব্যবহার করে চাল তুলতে দেখা যায়। পরে সেই চাল ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই একটি অস্থায়ী দোকানে ১০ কেজি চাল ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ইউপি সদস্য টাকার বিনিময়ে টোকেন বিক্রি করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিলদার হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে টোকেন বিক্রি করেছেন। ওই টোকেনের চাল সংগ্রহ করে অনেকেই বাজারে বিক্রি করছেন। তিনি আরও জানান, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সঠিকভাবে তালিকা করা হয়নি। অনেকের নাম তালিকায় থাকলেও তাদের জানানো হয়নি; বরং সেই টোকেন বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হলে ব্যাপক দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে জাহিদ হাসান নামে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে ১০ কেজি করে ২৮০ টাকা দরে চারবার চাল বিক্রি করতে দেখা যায়। এর মধ্যে তিনবার চাল তুলে বিক্রি করার কথা স্বীকার করে ওই কিশোর কৌশলে সেখান থেকে সরে পড়ে। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের কক্ষে গেলে সেখানে ট্যাগ অফিসারকে চেয়ারম্যানের সঙ্গে খোশগল্প করতে দেখা যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানালে তিনি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে ডেকে আপস করার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমি কিছুক্ষণের জন্য চেয়ারম্যান অফিসে বসেছিলাম। এর মধ্যে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। কাউকে ১০ কেজির বেশি দেওয়া বা ওজনে কম দেওয়ার কথা নয়। ৩ নম্বর আলীহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বলেন, ভুলবশত এমন হয়ে থাকতে পারে। তিনি বিষয়টি দেখছেন জানিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “ভিজিএফ চাল বিতরণে কেউ দুর্নীতি করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
