বাঁশখালীতে কবরস্থানে দাফন নিয়ে বিতর্ক: সমাজপতির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নের আলী বলি পাড়ায় এক গৃহবধূর দাফনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কবরস্থানে মরদেহ দাফন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এলাকার সমাজপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে একই এলাকার খলিলুর রহমানের পুত্র মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের স্ত্রী জান্নাত আরা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা তাকে এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় স্থানীয় সমাজপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন কবরস্থানে দাফনে বাধা দেন। এ বিষয়ে নিহত গৃহবধূর স্বামী মোহাম্মদ আনিস অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৯২ বছর আগে এলাকার সম্ভ্রান্ত নারী গুরা বিবি মসজিদ, কবরস্থান ও মাদ্রাসার জন্য কিছু জমি ওয়াকফ করে দেন। সেই জমিতেই বর্তমানে মসজিদ ও কবরস্থান পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে সমাজপতি গিয়াস উদ্দিন তার প্রভাব খাটিয়ে জায়গাটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমার স্ত্রীকে ওই কবরস্থানে দাফন করতে গেলে বলা হয় তিনি এলাকার ‘সম্মানিত ব্যক্তি’ নন, তাই সেখানে দাফন করা যাবে না। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও দুঃখজনক।”

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মসজিদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা গুরা বিবির ওয়াকফকৃত মসজিদ, কবরস্থান ও মাদ্রাসাসহ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির সঠিক হিসাব ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ওয়াকফকৃত সম্পত্তি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না। এসব সম্পত্তি পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। কেউ ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গিয়াস উদ্দিন নিজ দায়িত্বে সরে না দাঁড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে সমাজপতি গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আনিসের স্ত্রী এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন না। তাছাড়া মসজিদের পাশের কবরস্থানটি মূলত এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত।” তবে মসজিদ কমিটি ও কবরস্থানের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

error: Content is protected !!