বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব বৈলছড়ি গ্রামে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি কৃষি জমি এখন বিশাল গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। এতে হুমকিতে পড়েছে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্যসহ ফসলি জমি এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে জনপদ রক্ষায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ওয়াটসপ নাম্বারে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক ও সংবাদকর্মী।অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্ব বৈলছড়ি এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।সাবেক চেয়ারম্যান কফিলের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় এখানে মনছুর, পিতা : ইদ্রিস ও আব্দুল্লাহ, পিতা : নুরুর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে তিনটি পয়েন্ট থেকে দিনরাত বালু তোলা হচ্ছে।নাদারগের মুখ : এখানে মুনছুর, পিতা : রফিক বালু উত্তোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪০০ ট্রাক বালু অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাচু মেম্বারের পুত্র আবু ছালেক এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে সরাসরি যুক্ত।বিপর্যস্ত জনপদ ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো বালু উত্তোলনের ফলে কৃষি জমি বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ড্রাম ট্রাকের কারণে স্থানীয় এলজিইডি সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্তের কারণে আশেপাশের ভূমি ধসের সৃষ্টি হচ্ছে, যা সরাসরি ঐতিহাসিক বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ ও ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এতে উপার্জনহীন হয়ে পড়ছে শতশত কৃষক।
বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গত দুই মাস আগেই সংবাদ কর্মীর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করলেও জব্দ করা হয়নি কোন সরঞ্জাম।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনের পরবর্তী থেকেই শুরু হল বালু পাচার, প্রতিদিন শতশত ট্রাকে বালু পাচার করছে।পূর্বের অভিযানের ‘রহস্যজনক’ ফলাফল-
অভিযোগকারী জানান, প্রায় দুই মাস আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি অভিযান পরিচালনা করা হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো বালু বা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়নি।বর্তমানে চক্রটি ছোটামিঠা এলাকায় ২৫০ ট্রাক এবং ছারাপিরা এলাকায় ৩০০ ট্রাকসহ মোট প্রায় ৯৫০ ট্রাক বালু তড়িঘড়ি করে পাচার করছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মজুদকৃত বালু জব্দ করতে হবে। একই সাথে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
