নাগেশ্বরীতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী উপজেলা নাগেশ্বরী-তে ঘনঘন বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও শৈত্যপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় নাগেশ্বরী উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা উন্মুক্ত আলোচনায় এ অঞ্চলের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ চিহ্নিত করেন এবং তার সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে, নাগেশ্বরীতে প্রধান দুর্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, খরা ও শীতকালীন তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এসব দুর্যোগে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, বসতভিটা হারানো, মাছের উৎপাদন কমে যাওয়া, শিক্ষার বিঘ্ন ঘটাসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

কর্মশালায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের অসচেতনতা, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা, বন উজাড় ও জলাশয় ভরাটও দুর্যোগের তীব্রতা বাড়াচ্ছে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য।দীর্ঘ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সিপিআরডি’র সিনিয়র অফিসার (রিসার্চ অ্যান্ড ক্যাম্পেইন) জনাব আল ইমরান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনাব শাহাদাত হোসেন, উপজেলা পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব মোফাখখারুল ইসলাম, উপজেলা আরডিও জনাব মোস্তফা , পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সমাজকর্মী জনাব ওমর ফারুক, সাংবাদিক মো. জাহিদুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা। বক্তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—নদীভাঙন রোধে টেকসই ও বৈজ্ঞানিকভাবে বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, চরাঞ্চলে বহুমুখী ফসল চাষ ও খরা সহনশীল জাত সম্প্রসারণ,আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ,আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন,
মৎস্য ও কৃষিখাতে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি প্রয়োগ,বৃক্ষরোপণ ও জলাশয় সংরক্ষণ কর্মসূচি জোরদার করা,স্থানীয় স্কুল-কলেজে জলবায়ু শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা।

কর্মশালার শেষে একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে বলে আয়োজকরা জানান। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে নাগেশ্বরী উপজেলার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অধিক সক্ষম হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!