ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে- জনসচেতনের কোন বিকল্প নেই

মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: বর্তমান সমাজে ধর্ষণ একটি মারত্নক ব্যাধি আকার ধারণ করেছে।ধর্ষণের এর অন্যতম কারণ নৈতিকতা অবক্ষয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব।

প্রায় ১৪ শত বছর পূর্বে আরবে আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে কন্যা সন্তানদের জীবন্ত হত্যা সহ নারীদের শুধু মাত্র ভোগের পাত্র হিসেবে গন্য করা হতো কারণ তখন আরবের লোকেরা ছিলো বর্বর এবং নৈতিকতার অবক্ষয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব ছিলো। কন্যা সন্তানকে সমাজের বোঝা মনে করা হতো এমনিক মদ -জুয়া -নারীদের ভোগ করাই ছিলো তাদের নিত্যদিনের আচার -আচরণে মগ্ন ছিলো।

হাটে -বাজারে (নারী -পুরুষদের) কেনা -বেচা করা হতো এবং দাসী প্রথা প্রচলিত ছিলো।
দাসীদের সাথে নিজেদের যৌনচাহিদাও মোটাতো। বিশ্ব মানবতার মুক্তির অগ্রদূত মহানবী( সা) আরবে আবির্ভাবের পরে মানুষদের নেতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে এবং ইসলামি সমাজ বিনির্মানের মধ্যে দিয়ে কিন্তু আরবের পেক্ষাপট একটা সময় আলোকিত রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছিলো ইতিহাসের পাতা সোনালি যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে ।

পাশ্চাত্য সভ্যতা (পশ্চিমাদের) সংস্কৃতি ও সভতা কখনোই আমাদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয় না বরং ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমেই আমাদের আদর্শ ও নৈতিকতা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে চারদিকে শিশু,কিশোরী,ধর্ষণের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত আমরা টিভি -প্রত্রিকার খুললেই চোখে পড়ে। প্রতিমাসে ৫-৭ টা ধর্ষণের অভিযোগ এমনকি এক সপ্তাহে ৫-৭ টারও বেশি সমসাময়িক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটছে।

একটু গভীর ভাবে লক্ষ করুন তো কেন এগুলো ঘটছে?দেশে এতো ধর্ষণ হচ্ছে কিন্তু বিচার হয়েছে কয়টার?এখন থিকে পরিত্রাণের উপায় কি?
একটু ইতিটানি সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনার পিছনে সহিংসতা ও নেশাগ্রস্ত বিকৃতি মস্তিষ্কের মানুষরুপি কিছু অমানুষের দ্বার এই অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে কিছুটা ভিন্নতাও থাকতে পারে তবে অধিকাংশ এমনটি ঘটেছে? যারা ধর্ষণ করেছে তারও কোন না কোন মায়ের সন্তান ও আমাদের মতো পরিবার থেকে বেড়ে উঠা মানুষ।
তাহলে প্রশ্ন হলো কেন তারা এসমস্ত অপকর্মে লিপ্ত হলো এমনি কেন তারা এসব কুকর্ম করছে আর রাষ্ট্র কিংবা প্রশাসন কেন তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে?
প্রথমতো নৈতিকতার অবক্ষয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবে মানুষরুপি কিছু অমানুষ পাশবিক কুকর্মে লিপ্ত হচ্ছে আর আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়াতে ধর্ষণ দিনদিন বেড়েই চলেছে সেকারণেই ধর্ষণ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু দোষীরা বরাবরই অপরাধ করতে সাহস পাচ্ছে যদি দেশে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড কিংবা প্রকাশ্য দিবালকে গলা কাটা হতো তাহলে এমন দুঃসাহসিক আর কেউ দেখাতে সাহস করতো না? এটা আমাদের দেশে আদৌও কি সম্ভব কি না আমার জানা নেই তবে আমরা যার যার স্থান থেকে জনসচেতনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি। ধর্ষণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, স্টিকার,ফেস্টুন সহ জনসচেতনতা বাড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি। মোহাম্মদ আলী-লেখক ও জ্ঞান পিপাসু,মাস্টার্স (হাদীস) অধ্যায়নরত,অধীনস্থ -ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।

Leave a Reply

error: Content is protected !!