বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আগামী মাস থেকে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল শুরু হতে পারে। বেশ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি এই ফ্লাইট চলাচল করতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিনটি করে ফ্লাইট চলাচল করতে পারে।
আজ বুধবার লাহোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এলসিসিআই) এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে নিয়োজিত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হুসেইন খান এ তথ্য জানান। সরাসরি ফ্লাইট চালু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ এবং সংযোগ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাইকমিশনার ইকবাল হুসেইন খান বলেন, দুই দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। এলসিসিআই এবং লাহোরে বাংলাদেশের অনারারি কনস্যুলেটের যৌথ সুপারিশে এ ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আবেদনকারীদের তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ভিসা দেওয়া হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে আসা-যাওয়া দ্রুততর ও সহজতর হবে।’
বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে ইকবাল হুসেইন বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল রপ্তানি করতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পাকিস্তানে সরবরাহ করতে পারে তাজা আনারস। এ ছাড়া বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতেও দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি মালবাহী জাহাজের (কার্গো) নিয়মিত চলাচল শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বর থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্গো চলাচল শুরু হলেও বাড়তে থাকা বাণিজ্য চাহিদা পূরণে তা নিয়মিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে ইকবাল হুসেইন জানান, পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন বাংলাদেশে শিগগিরই একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে। এর মধ্যে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি থাকবেন। এই প্রতিনিধিদলের উদ্দেশ্য, আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে পাকিস্তানে পড়াশোনা করার জন্য আকৃষ্ট করা।
পাকিস্তানের পর্যটন খাতের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে উভয় দেশের যৌথ সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলেন ইকবাল হুসেইন।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইট জিন্নাহ ও এয়ার সিয়াল নামের পাকিস্তানের দুটি বেসরকারি বিমান সংস্থা দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট চলাচলের জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমোদন পেয়েছে।
