ফুলবাড়ীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন: বেকারি মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং নিষিদ্ধ ফুড কেমিক্যাল ব্যবহারের দায়ে এক বেকারি মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।১২ মার্চ
(বৃহস্পতিবার) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে কাশিপুর কলেজ মোড় এলাকায় অবস্থিত “মেসার্স মুহিন ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বেকারিতে এ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং খাবারে নিষিদ্ধ ফুড কেমিক্যাল ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়ে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এ অপরাধে বেকারি মালিক হাফিজুর রহমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার হোসাইন বলেন, জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন কিংবা নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উপজেলার কাশিপুর কলেজ মোড় এলাকায় নিম্নমানের সেমাই উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, “মেসার্স মুহিন ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড” নামের সাইনবোর্ড থাকলেও দোকানের পেছনে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেমাই তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার চারপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, অপরিষ্কার তৈজসপত্র এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে। কারখানাটিতে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন বলেও জানা গেছে।
কারখানার মালিক হাফিজুর রহমান জানান, তার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সেমাই উৎপাদন করা হয়। তবে উৎপাদনের মান ও পরিবেশ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের পাম অয়েল ও ডালডা দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভারের সমস্যা এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে নিম্নমানের এসব সেমাই বাজারে ছড়িয়ে পড়লে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এ ধরনের অনিয়ম রোধে প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!