আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যক্তির জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আলমগীর হাওলাদার, সুমন আকন ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আলী হোসেন কাজী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন কাজীকে গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে আলমগীর হাওলাদার, সুমন আকন ও তাদের সহযোগীরা বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আলমগীর হাওলাদার ও সুমন আকন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, চাঁদার টাকা না পেয়ে গত বুধবার আলমগীর হাওলাদার ও সুমন আকনের নেতৃত্বে মোস্তফা কাজী, ইব্রাহিম, জাকির ও শাকিলসহ ১০-১৫ জন লোক আলী হোসেন কাজীর জমিতে একটি ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন। এতে বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
আলী হোসেন কাজী অভিযোগ করে বলেন, আমি বাড়িতে একা থাকি। আমার দুই ছেলে নারায়ণগঞ্জে থাকায় এ সুযোগে তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হয়রানি করছে। ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলেও আমি তা দিতে রাজি হইনি। পরে তারা জোরপূর্বক আমার জমিতে ঘর নির্মাণ করেছে। তাদের ভয়ে আমি গত চারদিন ধরে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলী হোসেন কাজীর জমিতে একটি ছাপড়া ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আলমগীর ও সুমনের নেতৃত্বে মোস্তফা কাজী জোর করে ওই ঘর নির্মাণ করেছেন।
তবে সুমন আকন চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার মোটরসাইকেলে করে মোস্তফা কাজীকে নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে আলমগীর হাওলাদার জমিতে ঘর নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলীতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ
