ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে ধর্ম বা জাতিগত বিভেদ নেই, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত বিভেদ নেই বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এবং সকল দলের সাধারণ মানুষই এই ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল ৫টায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ১নং জয়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বেলঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় কৃষকদের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে এবং তারা নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহিত হবেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সহায়তার জন্য সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের মা-বোনেরা কিছু আর্থিক সহায়তা পাবেন। এতে তারা সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন এবং পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবেন। যদিও আড়াই হাজার টাকা খুব বড় অঙ্ক নয়, তবুও এটি অসহায় পরিবারের জীবনে কিছুটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। সবাইকে কর্মমুখী হতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবারের উন্নতির জন্য কাজ করতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচিতে কোনো ধর্ম বা জাতিগত বিভেদ নেই। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যেমন সাঁওতাল ও ওরাও সম্প্রদায়ের মানুষও এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এখানে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বিষয় নয়, প্রকৃত উপকারভোগীরাই এই সুবিধা পাবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসাসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এদিকে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে ঘিরে জয়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়ার্ডটির অন্তর্গত ১০টি গ্রামের প্রায় ৮ শতাধিক নারীর মধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৫৪০ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাবে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!