বদরুজ্জামান সুজন, নেছারাবাদ উপজেলা প্রতিনিধি (পিরোজপুর): কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলম। তিনি তার পক্ষে ও বিপক্ষে মত দেওয়া সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, সমালোচনার মধ্য দিয়েই মানুষ নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ পায়।
ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শাহ আলম লিখেছেন, তার সম্পর্কে অনেকেই সমর্থন জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন, এজন্য তিনি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে যারা তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন, তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান তিনি। তার ভাষ্য, মানুষ হিসেবে কাজ করতে গেলে ভুল-ত্রুটি হতেই পারে এবং সবাই যে তাকে ভালো বলবে—এমন প্রত্যাশা তিনি কখনো করেন না। স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেউ যদি সত্যিকারভাবে তার কোনো দোষ-ত্রুটি তুলে ধরে থাকেন, তবে সেটি সংশোধনের উদ্যোগ নেবেন তিনি। তবে না জেনে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ না দেওয়ার আহ্বানও জানান সাবেক এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, মানুষের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের ফল একদিন না একদিন ভোগ করতে হয় এবং প্রকৃতির এই বিচার থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো উপায় নেই। শাহ আলম আরও জানান, তার এলাকার ভেতরে ও বাইরে অনেকেই তার জন্য দোয়া করেছেন এবং মঙ্গল কামনা করেছেন। এজন্য তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সবার মঙ্গল কামনা করেন।
তিনি তার ব্যক্তিগত আইডিতে যা লিখেছেন: আমি একটি বিষয় দেখে অত্যন্ত অবাক হয়েছি। আমার সম্পর্কে অসংখ্য লোক আমার পক্ষে পোস্ট দিয়েছেন, যারা আমার পক্ষে পোস্ট দিয়েছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দু চারজন ব্যক্তি আমার বিপক্ষেও পোস্ট দিয়েছেন, আমার বিপক্ষে পোস্ট দেয়া লোকের সংখ্যা আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল। কারণ আমি তো মানুষ কাজ করলে ভুল ত্রুটি হতেই পারে। আবার একই কাজ সবার পক্ষে মঙ্গলজনক হবে, এরকম কোনো কারণ নেই। যারা আমার বিপক্ষে পোস্ট দিয়েছেন তাদেরকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।সব লোক আমাকে ভালো বলবে এটা আমি কখনো প্রত্যাশা করি না। যে সকল ব্যক্তিবৃন্দ আমার দোষ ত্রুটি উদঘাটন করেছেন তারা ঠিকমতো জেনে শুনে যদি আমার দোষ ত্রুটি উদঘাটন করে থাকেন, তাহলে আমার তরফ থেকে কোন আপত্তি নেই বরং তাদেরকে আমি সাধুবাদ জানাবো এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই দোষ গুলো সংশোধন করার উদ্যোগ নেব।তারপরও আমাদেরকে একটা কথা ভাবতে হবে যে আমরা না জেনে কারো বিপক্ষে যেন মিথ্যা অপবাদ না দেই।আমাদের সকলের কর্মকাণ্ডের ফলাফল আমাদের কেভোগ করতে হবে, প্রকৃতির এই বিচার থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোন উপায় নেই। আমাদের এলাকার এবং এলাকার বাইরে অনেকে আমার জন্য দোয়া করেছেন, আমার আমার কল্যাণ প্রত্যাশা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাদের সবাইকে ভালো রাখুন, এই কামনা করি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে তাকে আটক করে রমনা থানা পুলিশ। পরে ১ মার্চ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা না থাকায় আদালতের নির্দেশে ১০ মার্চ তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। অধ্যক্ষ শাহ আলম ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
