বরিশালে উন্নয়নের নবদিগন্ত: জনসেবায় এক অনন্য নাম আয়মান রাহাত

শিক্ষা, মেধা আর সততার সমন্বয়ে একটি জনপদ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আয়মান রাহাত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণি’ অর্জনকারী এই মেধাবী ব্যক্তিত্ব কেবল একজন দক্ষ একান্ত সহকারী সচিবই ছিলেন না, বরং দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়নের এক নেপথ্য কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

গবেষক, লেখক এবং সাবেক মাননীয় উপদেষ্টার (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়) একান্ত সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বরিশাল অঞ্চলে যে ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ চালিয়েছেন, তা আজ দৃশ্যমান।

১. ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোয় অভূতপূর্ব সংস্কার
ধর্মীয় মূল্যবোধ আর সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি চার ধাপে প্রায় ১২৬টি মসজিদে ২ কোটি টাকার অধিক অনুদান ও সংস্কার কাজের সরাসরি সমন্বয় করেছেন। কেবল মসজিদই নয়, বরং ঈদগাহ, মাদ্রাসা ও গণকবরস্থান উন্নয়নেও তাঁর বিশেষ অবদান স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
২. যোগাযোগ ব্যবস্থায় ৪০ কোটির মহাপরিকল্পনা
একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে উন্নত যোগাযোগের বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ ও মেরামতে প্রায় ৪০ কোটি টাকার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হচ্ছে। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করেছেন।
৩. নিরাপদ পানি ও জনস্বাস্থ্য
মুলাদী এলাকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ২.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে পাম্প হাউস নির্মাণ তাঁর অন্যতম মানবিক উদ্যোগ। এই প্রকল্পের ফলে ওই অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনে বিপ্লব: ৩০৮ কোটির মেগা প্রকল্প
তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি বরিশালে ক্রীড়া বিপ্লব ঘটিয়েছেন।
* মিনি স্টেডিয়াম: ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল বিভাগে ২২টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ তাঁর বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে।
* ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ: ৩০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুটবল, ভলিবল, দাবা সেটসহ আধুনিক ক্রীড়া সরঞ্জাম সরবরাহ করেছেন তিনি।
* মাঠ সংস্কার: বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ সংস্কারে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করেছেন।
৫. গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার কোটি টাকার মিশন
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বরিশাল জেলার মুলাদী, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, উজিরপুর, বানারীপাড়াসহ প্রায় প্রতিটি উপজেলায় ১ হাজার ৪০ কোটি টাকার বিশাল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয় করেছেন তিনি। এছাড়াও বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে আরও ৪ কোটি টাকা মুলাদী ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যয় করা হয়েছে।
৬. নদী শাসন ও ভাঙন প্রতিরোধ
নদীবেষ্টিত বরিশালের মানুষের প্রধান আতঙ্ক নদী ভাঙন। রামারপোল লঞ্চঘাট ও আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষায় ৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাটের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি। এছাড়াও আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীর স্থায়ী বাঁধে তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনা ভাঙনকবলিত মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

মোঃ আয়মান হাসান রাহাত কেবল একটি নাম নয় তিনি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বরিশাল গড়ার এক স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নয়নের এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Reply