1. rashrafulofficial@gmail.com : Asraful Islam : Asraful Islam
  2. vorernews.info@gmail.com : admi2017 :
  3. allensumon19@gmail.com : allen sumon : allen sumon
  4. mehrazkhanopy159@gmail.com : Admin4 :
  5. rkrony647@gmail.com : Mohammad Rony : Mohammad Rony
মিসেস শায়লা রহমানের Part 2 - VorerNews.com
ব্রেকিং নিউজঃ
জলবায়ু তথ্য: অর্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নতুন কী প্রিন্স হ্যারি যেসব শিশুদের বাবা-মা হারিয়েছেন তাদের কভিড -১৯-তে বলেছেন: ‘আপনি একা নন’ বাংলাদেশ পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে সুখী আ.লীগ ক্ষমতায় এলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্থ: ফখরুল ফেসবুকে বাবা মার কাছে ক্ষমা চেয়ে যুবকের আত্মহত্যা মাত্র ২০ বছর বয়সেই সফল ডিজিটাল মার্কেটার মেহরাজ খান অপি অর্থবছর 21-এ 8 শতাংশ সংকোচনের পরে অর্থনীতি 11 শতাংশে প্রত্যাবর্তন করবে: ক্রিসিল রেটিং জটিল এবং কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন: রাষ্ট্রপতি শি চীন পিএলএকে বলেছেন পাকিস্তানের আক্রমণে চীনা নাগরিক সামান্য আহত হয়েছে আইপিএল টি ২০ বিশ্বকাপ ২০২২ প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে: ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক স্যাম বিলিংস বিল

মিসেস শায়লা রহমানের Part 2

  • Update Time : Thursday, February 11, 2021
  • 41 Time View
আসলাম হক প্রথমে জেরা করলেন সখিনা বুয়াকে৷
জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি প্রথম কখন ভাঙা ফুলদানিটা দেখ?’
– সাহেব, আমি আর ড্রাইভার সামাদ ভাই দোতলার রুমে লুকায়ে লুকায়ে সেক্স করতেছিলাম। ম্যাডাম ঘুম থেকে উঠার আগে প্রতিদিন আমরা এই কাজ করি। হঠাৎ ম্যাডামের চিল্লানি শুনে তাড়াতাড়ি উঠে শাড়িটা পরেই এক দৌড়ে নিচে আসি। এসে এই ঘরে ঢুকে দেখি বড় সাবের লাশ পড়ে আছে। রক্ত ঘর ভরা। আমি তখনও বুঝিনি ম্যাডাম কেন চিল্লাইছে। চিল্লানোর মত কি এমন দেখছে উনি এই ঘরে? তখন আমার চোখে পড়ে ফুলদানিটা ভেঙে গেছে৷ জিনিসটা দেখে আমার আরেকটু হলে হার্টফেল হচ্ছিল। এতো ভয় আমি কুনোদিন পাইনি এর আগে৷ আমি জানি ঐডা ম্যাডামের জানের জান। কে যে এমন কামডা করলো, আহারে! তার মনে কি একটুও মায়াদয়া নাই?’
– তুমি কাউকে সন্দেহ করো?
– নাহ, তেমন কাউরেই তো দেখিনা। ম্যাডামের ফুলদানির ওপর কারো শত্রুতা থাকতে পারে বলে আমার হয়না।
– লাস্ট কখন তুমি ফুলদানিটা দেখেছ?
– কাল রাতেই দেখছি। বড় সাব মানে আমাদের ম্যাডামের বর ফুলদানিতে নতুন ফুল রাখতেছিলো৷ তখন দশটা এগারোটা বাজে৷ একদম আস্ত ফুলদানি ছিলো। আর এখন দশ টুকরা। আহারে, কখন কোন জিনিস ভেঙে যায় আগে থেকে কিচ্ছু বুঝা যায় না।
– আচ্ছা এখন তুমি আসতে পারো।
– কি কন সাহেব, আমি তো আপনার সামনেই। আর ক্যামনে আসবো।
– আই মিন, তুমি এখন যেতে পারো।
.
এরপর রমিজ বাবুর্চি,
– ফুলদানিটা ভাঙার আগে তুমি কোথায় ছিলে?
– আমি ছোট আপা মানে শাওলিন আপার বাথরুমে গোপন ক্যামেরা সেট করেছি। সারারাত যা যা ক্যামেরায় আসে, সকালে উঠে সেগুলোর ভিডিও দেখি। আজকেও দেখতেছিলাম, এমন সময় ম্যাডামের আওয়াজ আসে। আমি তাড়াতাড়ি কম্পুটার অফ করে দৌড়ে গিয়ে দেখি ফুলদানি ভাঙা।
– গোপন ভিডিও তুমি কতদিন ধরে দেখছ?
– এই ধরেন প্রায় এক বছর হতে চলল?
– কখনো সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েছে?
– নাহ, বাথরুমে হেই খালি গুসল করে আর হাগে। সন্দেহজনক কিছুই দেখিনি।
– আই সি, এবাড়িতে কারো ওপর সন্দেহ আছে তোমার?
– জ্বে স্যার, ম্যাডামের চাচাতো ভাই মন্টুর লগে ম্যাডামের ঝগড়া আছিলো৷ হে ম্যাডামের ক্ষতি করবার পারে।
.
এবারে শায়লা রহমানের গ্রামের চাচাতো ভাই মন্টু-
– সকাল থেকে কি করেছ?
– শায়লা আপার সাথে আমার গ্যাঞ্জাম। আমি আজ চলে যাবো গ্রামে। এজন্য সারারাত ধরে আপার আলমারির তালা খুলে চুরি করে টাকাপয়সা আর গয়নাগাটি সব ব্যাগে ভরেছি। ঘুমাইছি ফজরের আগে৷ এজন্য ঘুম ভাঙতে ভাঙতে বেলা হয়ে গেছে। আপার চিল্লানি শুনে ধড়ফড় করে ঘুম থেকে উঠছি৷ উঠে ঐঘরে গিয়ে দেখি কে যেন ফুলদানি ভাইঙ্গা ফেলছে৷
– আচ্ছা, তুমি যাও।
.
সবার শেষে ড্রাইভার সামাদ-
– স্যার আমি আর সখিনা বুয়া উপরের ঘরে..
– আচ্ছা আচ্ছা বুঝেছি৷ ব্যাখ্যা করে বলতে হবে না। কাউকে সন্দেহ করো।
– জ্বে না স্যার।
– তোমরা সেক্স করার সময় কনডম ব্যবহার করো।
– জ্বে না স্যার। সখিনার বর আছে, কিছু হইলে বাচ্চা হের নামে যাইবো।
– আচ্ছা ঠিক আছে৷
.
সবার জেরা শেষ করে আসলাম হক শায়লা রহমানের ঘরে আসলেন। উনি তখনো ফুলদানির শোকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছেন।
আসলাম হক বেশ কিছুক্ষণ ভাবলেন৷ তারপর বললেন, আমি বুঝতে পেরেছি অপরাধী কে!
শায়লা রহমান কান্না থামিয়ে উদগ্রীব হয়ে চাইলেন।
জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে অফিসার? কে সেই লোক?’
– এটা এই বাড়ির কারো কাজ না।
– তাহলে?
আসলাম হক ব্যাগ থেকে কিছু পত্রিকার কাটিং বের করলেন। শায়লা রহমানের সামনে মেলে ধরলেন। প্রতিটা কাটিংএ একই রকম নিউজ। শহরের বিভিন্ন বাসায় বিভিন্ন আসবাব ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। অধিকাংশ ই ফুলদানি৷ দুইটা আছে কাচের ওয়াইন বোতল আর একটা চেয়ার।
আসলাম হক বড় একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘এটা কোনো সিরিয়াল ভাঙচুরকারির কাজ৷ প্রতিটা জিনিস একই প্যাটার্নে ভাঙা হয়েছে৷ বাসার কারো মাথায় বাড়ি দিয়ে। ভাঙা জিনিসের পাশেই একটা করে লাশও পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কেউ একজন মানুষের ফাকা বাসায় ঢুকে তাদের ঘরের কোনো দামী জিনিস ভেঙে ফেলছে৷ পুলিশ লোকটাকে খুঁজছে। খুজে পেলেই তার থেকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দেয়া হবে সবাইকে। মাসখানেকের জেলও হতে পারে।’
শায়লা রহমান কিছু একটা ভাবলেন। তারপর বললেন, ‘আপনি যেহেতু জানেন যে এটা অন্য কারো কাজ, তাহলে বাসার সবাইকে জেরা করলেন কেন?’
আসলাম হক মুচকি হেসে বললেন, ‘জেরা করতে আমার অনেক ভালো লাগে। এজন্য।’
.
আসলাম হক চলে গেলেন। শায়লা রহমান সকালের নাস্তা করে একটা হাসির সিনেমা দেখতে বসলেন। কিছুক্ষণ পর উনার মন একটু হালকা হলো৷ স্বামীর লাশ আর রক্ত সব পরিস্কার করে ফেলে দিয়ে এসে ফুলদানির ভাঙা টুকরোগুলো যত্ন করে তুলে রাখলেন। জিনিস না থাকুক, স্মৃতি হিসাবে তার টুকরোগুলো অন্তত থাকুক।
.
দুপুরের পর শাওলিন বাসায় আসলো। বাসার থমথমে পরিবেশ দেখে কাজের বুয়াকে জিজ্ঞেস করলো, কি হয়েছে?
সখিনা বুয়া কাঁদো কাঁদো গলায় বললো, ‘ম্যাডামের শখের ফুলদানি কে যেন ভেঙে ফেলেছে।’
শুনে মনে মনে খুশি হলো শাওলিন। খুব ভালো কাজ হয়েছে৷ মা-কে সে পছন্দ করে না। তার ক্ষতি হয়েছে শুনে ভালো লাগছে৷ কিন্তু মুখে একটু দুঃখ দুঃখ ভাব ফুটিয়ে বললো, ‘আহারে, ফুলদানি ভাঙছে কে?’
– কে ভাঙছে কেউ জানেনা।
– কিভাবে ভাঙছে?
– কেউ একজন আপনার আব্বার মাথায় বাড়ি মেরে ভাঙছে। বড় সাহেবের লাশ ফুলদানির পাশেই পড়ে ছিলো।
– কি বললে? আমার বাবা! আমার বাবা! শাওলিন এক দৌড়ে ড্রয়িংরুমে গিয়ে মেঝেতে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো।
সখিনা বুয়া মেয়েটার মাথায় হাত রেখে বললো, ‘এভাবে কাঁদে না মা। বাবা কি কারো আজীবন বেঁচে থাকে?’
– বাবার জন্য কাঁদছি না।
– তাহলে?
শাওলিন আরো কান্নার জোর বাড়ালো। কাঁদতে কাঁদতে বললো, ‘বাবাকে আমি বলেছিলাম গরুর কালা ভুনা কিনে আনতে, দুপুরে খাবো। আমি এখন কি দিয়ে ভাত খাবো। বাসায় তো ডিমও নাই!’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category