1. rashrafulofficial@gmail.com : Asraful Islam : Asraful Islam
  2. vorernews.info@gmail.com : admi2017 :
  3. allensumon19@gmail.com : allen sumon : allen sumon
  4. mehrazkhanopy159@gmail.com : Admin4 :
সেক্স এডুকেশন, কনসেন্ট এবং ভিক্টিম ব্লেমিং। Part 2 - VorerNews.com

সেক্স এডুকেশন, কনসেন্ট এবং ভিক্টিম ব্লেমিং। Part 2

  • Update Time : Thursday, February 11, 2021
  • 9 Time View
এখন ধরুন আপনি আমার বইটা পড়তে চাননি৷ কিন্তু কেউ আপনাকে জোর করে পড়ালো। আপনার সম্মতি ছাড়া৷ আর সম্মতির ইংরেজি হলো কনসেন্ট৷ সেটা হইতে পারে আপনাকে হুমকি দিয়ে পড়ানো, মাইর দিয়ে পড়ানো, ভয় দিয়ে পড়ানো। যেমন আপনার বস বললো, এই বই না পড়লে চাকরি থাকবে না৷ আপনি বাধ্য হয়ে পড়লেন৷ বা ধরেন আপনি নিজের ইচ্ছাতেই বই কিনলেন। অটোগ্রাফ আর চিরকুট সহ৷ নিজের সম্মতিতেই আপনি বই পড়া শুরু করলেন। বই অর্ধেক পড়ার পর আপনার মাথা ঘুরতে লাগলো। শরীর খারাপ করলো। আপনি ভাবলেন আর পড়বেন না। তখন আপনার বন্ধু আপনাকে জোর জবরদস্তি করে বইটা পড়ালো। আপনি বইএর শেষ পর্যন্ত যেতে যেতেই মারা গেলেন। এটাও একরকম বইবাহিক ধর্ষণ! :3
.
এখন কথা হলো, এই কনসেন্ট বা সম্মতি জিনিসটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ কিনা। আমি বলব, না৷ এটার কোনো দরকার ই নেই। যেখানে আমাদের বাবা মায়ের অধিকাংশেরই বিয়ে হয়েছে কনসেন্ট ছাড়া। তারা কি হ্যাপি নেই? হ্যা, কিছু মানুষ হয়তো বিবাহিত জীবনে অসুখী হয়েছে৷ জোর করে একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে নিজের শখ আহ্লাদ সব বরবাদ করে ধুকে ধুকে শেষ হয়ে গেছে৷ কিন্তু ওগুলো খুবই অল্প। এই ধরেন হাজারে দুই তিনশো। এতো অল্প মানুষের জন্য ভেবে লাভ কি! সুতরাং কনসেন্ট অবশ্যই ওভাররেটেড জিনিস৷ নো মিনস নো না৷ নো মিনস, মেয়ে লজ্জা পাচ্ছে। আসলে তো হ্যা।
তাছাড়া না হলেও বা কি, ডিভোর্স তো আপনি নিতে পারবেন না৷ তাহলে লোকে কি বলবে। সমাজে আপনার মান ইজ্জত কিছু থাকবে? বাঙালি চিরায়ত সংস্কৃতি অনুযায়ী আপনি ভিক্টিম ব্লেমিং এর শিকার হবেন। এই ভিক্টিম ব্লেমিং জিনিসটা যে কত সংসার টিকিয়ে রেখেছে। জাস্ট ভাবা যায় না। আলহামদুলিল্লাহ। সুতরাং কনসেন্ট কে না বলুন। বাবা মা কি কখনো আপনার খারাপ চায়, বলুন? আপনার জীবন ধ্বংস হয়ে গেলেও সেটা আপনার ভালোর জন্যই হয়েছে।
.
এবার সর্বশেষ যে টপিক নিয়ে আমরা কথা বলবো, সেটা হলো আমার বই বাসায় বসে সরাসরি পাবেন রকমারি ডট কমে। আর সেক্স এডুকেশন নামের সিরিজ পাবেন নেটফ্লিক্সে। বাস্তবে সেক্স এডুকেশনের কোনো দরকার নাই৷ এটা আমেরিকার- ইউরোপের জিনিস। তারা তাদের মতো বাচ্চাদের সেক্স শিখাক। আমরা এসব অশ্লীলতার মধ্যে নেই। আমাদের বাচ্চাদের জন্য পর্ণ এবং চটি গল্প আছে। সেক্স সম্পর্কে শেখার জন্য যথেষ্ট। এছাড়া আমাদের ইঁচড়েপাকা বন্ধুবান্ধবরাও আমাদের সুন্দরভাবে বিষয়টা শিখিয়ে দেয়। আলহামদুলিল্লাহ ক্লাস ফোর ফাইভে থাকতেই আমরা যাবতীয় সেক্স এডুকেশন পেয়ে যাই। সিক্স সেভেনেই মাস্টারবেশন শিখে ফেলি। তারপর বিয়ের আগ পর্যন্ত খালি মজা আর মজা। বিবাহিত যৌনজীবনে অসুখি তাতে কি, নাতাশা মালকোভাতে যে মজা, তা কি আর বউতে আছে নাকি।
তাছাড়া সেক্স এডুকেশন মানেই হলো ছেলে মেয়েদের ওপেন সেক্স করতে বলা। প্রাকটিকালে নাকি টিচার আর ম্যাডাম মিলে ক্লাসের মধ্যেই। ছিহ!
.
মেয়েরা যে শুধুমাত্র ‘জিনিস’ আর ‘মাল’ এটা তো আমরা এমনিই জানি। এর জন্য আবার এডুকেশনের কি দরকার। তাছাড়া রিস্কও আছে, মেয়েরা যদি গুড টাচ ব্যাড টাচ শিখে যায়, তাইলে দেখা যাবে আপনি একটু কোনো বাচ্চাকে হালকা মলেস্ট করলেও সে বাবা মা কে বলে দেবে। তখন তো জীবনের আসল মজাটাই শেষ! তখন মজা নেয়ার জন্য একটাই উপায় থাকবে। সেটা হলো, আমার উপন্যাস ‘স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ কিনে পড়া!
.
আজকাল কিছু মানুষ দেখি ফেসবুকে এই তিনটা জিনিস নিয়ে খুব লাফালাফি করে। ভিক্টিম ব্লেমিং করা যাবে না, কনসেন্ট ইজ ইম্পর্টেন্ট, সেক্স এডুকেশন দরকার। তখন আমার এতো হাসি পায়! এরা সংখ্যায় এতো কম যে, তার থেকে বেশি মানুষ কুরিয়ার সহ মাত্র তিনশো টাকায় অটোগ্রাফ সহ আমার বই কিনে ফেলেছে। ভাই, এসব লেখালেখি বাদ দাও। আমরা কোটি কোটি মানুষ তোমাদের বিপক্ষে। আমরা আমাদের সংস্কৃতি রক্ষা করেই ছাড়ব। তোমাদের ব্যাপারটা এরকম যে, বিকল্প ধারা পার্টি ভোট দিয়ে সরকার চেঞ্জ করে ফেলার ইচ্ছা করতেছে।
.
এসব বাদ দিয়ে জীবনের আসল মজা নাও। ভিক্টিম ব্লেমিং করার যে আনন্দ, তা কি অন্য কিছুতে আছে? কোনো জিনিস কারো ওপর জোর করে চাপায়ে দেয়ার যে মজা তা তোমরা কখনোই টের পাবা না। পর্ন আর চটি পড়ে সেক্স শেখার যে মহাত্ম তা তোমাদের কল্পনারও বাইরে।
.
সুতরাং, ওহে দুইপাতা পড়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী, আমাদেরকে তোমাদের অশ্লীল বিদেশি সংস্কৃতি শিখাতে এসো না। আমাদের কথা বা কাজ ভালো না লাগলে ইগনোর করো। আমি জানি, অনেকেই এই পোস্টের কমেন্টে বিশাল আর্টিকেল লিখে আমাকে বুঝাতে আসবে। তাদেরকে বলবো, কোনো লাভ নাই। আমার এতো ফ্রি টাইম নেই তোমাদের সাথে তর্ক করার। আমি তাদের মেসেজের রিপ্লাই দিতে ব্যস্ত যারা আমার বই কিনতে চেয়ে নক করেছে। সুতরাং টাইম ওয়েস্ট না করে, প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে গিয়ে নিউজ পড়ো। শবনম ফারিয়ার লেটেস্ট খবর জানতে পারবা। জীবনে অনেক কাজে দিবে!
.
অফটপিকঃ সবকিছুর মধ্যে আমি নাকি আমার বইএর প্রমোশন ঢুকাই। মানুষজন নক দিয়ে বলে, ভাই আপনি এখন নতুন গল্প লিখেন না। যা লিখেন তাতেই আপনার বইএর কথা থাকে। আর ভালো লাগে না। মানুষ তো দূর, আমার গার্লফ্রেন্ডেরও একই অভিযোগ। সে সেদিন বলতেছে, ‘সোহাইল, সবই মানলাম, কিন্তু ফোন সেক্স করার মাঝে একটু পরপর তোমার বইএর রেফারেন্স দিলে কিভাবে হবে!’
.
অথচ আমি অপ্রাসঙ্গিক কিছুই বলিনি। সে বলেছিলো, এখন আমাকে চুমু দাও।
আমি বলছিলাম, মনিরুল জোয়াদ্দার যেভাবে নীলিমাকে চুমু দিচ্ছিলো সেভাবে দিচ্ছি। তাদের সম্পর্কে পড়তে হলে কিনতে হবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর! পাবা রকমারি ডটকম, বিবিধ সহ যেকোনো বুকশপে।
– এসব কেন বলতেছ, আশ্চর্য! সমস্যা কি তোমার?
.
আমি হাসলাম, ‘দেখ, কাল যদি তুমি আমার ওপর রেগেমেগে আমাদের অডিও ফাস করে দাও, তো আমার বইএর বিজ্ঞাপন তো হবে এটলিস্ট!’
.
এই সামান্য কারণে সে ব্রেকাপ করে দিয়ে চলে গেছে। সুতরাং আমি এখন সিঙ্গেল। সুন্দরী মেয়েরা আমাকে নক দাও। তোমাদের জন্য আমার বই ‘স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ এ থাকছে স্পেশাল ডিসকাউন্ট! :3

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category