1. rashrafulofficial@gmail.com : Asraful Islam : Asraful Islam
  2. vorernews.info@gmail.com : admi2017 :
  3. allensumon19@gmail.com : allen sumon : allen sumon
  4. mehrazkhanopy159@gmail.com : Admin4 :
সেক্স এডুকেশন, কনসেন্ট এবং ভিক্টিম ব্লেমিং। Part 1 - VorerNews.com

সেক্স এডুকেশন, কনসেন্ট এবং ভিক্টিম ব্লেমিং। Part 1

  • Update Time : Thursday, February 11, 2021
  • 15 Time View
এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলে আমি আলোচনা করতে যাচ্ছি এই সময়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কন্ট্রোভার্শিয়াল টপিক নিয়ে। সেক্স এডুকেশন, কনসেন্ট এবং ভিক্টিম ব্লেমিং।
.
তো চলুন শুরু করি।
.
আপনারা সবাই জানেন যে আমরা বাংলাদেশে বাস করি। আমাদের ভাষা বাংলা। তো এই ভাষায় একটা উপন্যাস বের হয়েছে গত ডিসেম্বরে যেটার নাম ‘স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’।
বইটা কিনতে হলে রকমারি, বিবিধ সহ যেকোনো অনলাইন শপে নক করুন। লিংক পেতে মেসেজ দিন আমাকে।
.
তো ধরেন বইটা টাকা খরচ করে পড়ার পর আপনার মনে হয়েছে আপনার লাইফের সবচেয়ে খারাপ সময়টা আপনি গত তিন ঘন্টায় কাটিয়েছে। বই পড়ার মাঝে খারাপ রাইটিং দেখে আপনার মোট সাড়ে তিনবার বমি হয়েছে। তিনবার পুরোপুরি আরেকবার আপনি হওয়ার আগেই গিলে ফেলেছেন। যাই হোক, বই পড়ার পর আপনার এখন প্রচন্ড মাথাব্যাথা। শরীর কাপছে রাগে এবং দূর্বলতায়। রাগ কারণ আপনার সময় নষ্ট হয়েছে, দূর্বল কারণ এডাল্ট সিন পড়ার সময় আপনি মাস্টারবেশন করেছেন।
মোটামুটি আমার বই পড়ে আপনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ। অর্থ্যাৎ আপনি একজন ভিক্টিম। আপনি এই জিনিসটা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন। যে ‘স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ বইটা পড়ে আপনি অসুস্থ এবং যেকোনো সময় মারা যেতে পারেন। এবং এর জন্য দায়ী বইটার লেখক সোহাইল রহমান।
.
আপনার স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে গেল এবং সেটা দেখে প্রথম আলো পর্যন্ত নিউজ করে ফেললো। তারা নিউজের শিরোনাম দিলো, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে সৃজিতের আগে বাথরুমে গেলেন মিথিলা’ অথবা, ‘নিক প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান স্টাইলে বাথরুম করে থ্যাংক ইউ জানালেন প্রিয়াঙ্কাকে।’
কারণ প্রথম আলো এইসব ‘শিট’ জিনিস ছাড়া আজকাল নিউজ খুব একটা করে না। তাদের বিষয় আলাদা। আপনার মৃত্যুতে তাদের কিছু যায় আসে না।
তো আপনার সেই ভাইরাল পোস্টের নিচে সবাই কমেন্ট করল, ‘আরে তুই কি বোকাচোদা নাকি, ঐ বই কেন পড়ছস?’
‘বই পড়ার আগে হুশজ্ঞান কই ছিল হালা ভোদাই।’
‘আমারে কেউ টাকা দিলেও ঐ বই পড়ব না, আর তুই নিজের ইচ্ছায় পড়ছস। একদম উচিত শিক্ষা। আরো বেশি হওয়া উচিত ছিলো।’
‘আজকালকার পোলাপান সেক্স ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। যা হইছে ভালো হইছে৷ মর শালা।’
‘পাশ্চত্য সাংস্কৃতির প্রভাবে আজকে আমাদের এই অবস্থা। বাল্য বিবাহকে যদি আমাদের সমাজে সহজ করে দেয়া হতো তাহলে এই দিন দেখা লাগতো না। আমরা চার বিয়ে করার পরিবেশ চাই।’ (এই কমেন্টের সাথে আপনার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নাই। এই লোক শুধু ইসলামের নামে জীবনে বেশি সেক্স চায়। আর কিছু না। ইগনোর হিম)
.
তো এই যে আপনার উপর হওয়া ‘বইবাহিক’ অত্যাচারের (বই বাহিত অত্যাচার) জন্য মানুষ আপনাকেই দোষ দিলো। আপনি ,আপনার ফ্যামিলি এবং আপনার বাবা মাকে গালি দিলো। এটার নাম হলো ভিক্টিম ব্লেমিং৷ একটা জিনিস ভালোভাবে মনে রাখুন, বই পাওয়া যাচ্ছে রকমারি ডট কমে।
.
তো যাই হোক, আমি এই ভিক্টিম ব্লেমিং এর বিপক্ষে না। আপনি কিভাবে আপনার সাংস্কৃতির বিরুদ্ধে যেতে পারেন? দুইলাইন পড়ালেখা শিখে এসে আপনি আপনার শিকড় ভুলে গেলে তো হবে না। শীতের ভোরে খেজুরের রসে ভিজানো পিঠা, ঘুমানোর আগে লুঙ্গি পরা, ভিক্টিম দেখলে ব্লেইম দেয়া, এগুলো তো আমাদের চিরায়ত বাংলার সৌন্দর্য। ছোটবেলায় বাইরে থেকে মাইর খেয়ে আসার পর আপনার মা আপনাকে ধরে আরো মাইর দিছে, আপনি কিভাবে ভিক্টিম ব্লেমিংকে অস্বীকার করতে পারেন? ডানো গুড়ো দুধের মত ভিক্টিম ব্লেমিংএও আছে মায়ের হাতের স্পর্শ। আপনি আজকে বাসায় গিয়ে সবার সামনে বলবেন, ‘আমার অমুক বান্ধবী রাত বারোটায় রাস্তায় ছিনতাইয়ের শিকার হইছে’
তো অধিকাংশ মানুষের প্রথম কথা হবে, ‘এতো রাতে একা মেয়ে রাস্তায় কি করে। উচিত শিক্ষা হইছে।’
এবং জিনিসটা আসলে ভালো। এটাকে আমরা পজিটিভলি নেই আসুন। আমাদের দেশে মানুষ সাবধান থাকে এইজন্য না যে রেপ হলে আমার ক্ষতি হবে। মানুষ সাবধান থাকে এইজন্য যে, রেপ হলে লোকে কি বলবে!
ক্রাইম বন্ধ হওয়ার জন্য এর থেকে সুন্দর মোটিভেশান আর হয়না। আমার নিজের কথা বলি। অনেস্টলি, আমি যদি একা বসে ভাবি যে আমি স্ট্রোক করে মরে গেছি হুট করে, তখন আমার মাথায় এই চিন্তা আসে না যে মরে গেলে কি হবে! বা মরে যাওয়া খুব ভয়ংকর। আমার মাথায় এটা আসে যে, এই বয়সে মরে গেলে তো লোকে হাসাহাসি করবে। এই লজ্জা আমি কই রাখব। মরার পর আমি কাউকে মুখ দেখাতে পারব না।
এইজন্য ভাবতেছি সিগারেট ছেড়ে দিব। কারণ ধুমপান ‘স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’। আর এই নামে বিবিধ বুকশপে ৩০% ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে আমার বই! :3
.
সুতরাং এই ভিক্টিম ব্লেমিং আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মানুষ বিশ বছর চেষ্টা করে টরেন্ট বন্ধ করতে পারল না, আর আপনি আজকের পোলা ভিক্টিম ব্লেমিং বন্ধ করবেন! ফানি। তাই আমাদের উচিত সময় থাকতে এই জিনিস একসেপ্ট করে নেয়া। এবং সর্বত্র চালু করে দেয়া। কাল আপনার ফ্যামিলির কেউ এক্সিডেন্ট করলে তাকে সান্ত্বনা দেয়ার বদলে বলুন, ‘চলন্ত গাড়িতে উঠলে এক্সিডেন্ট তো হবেই। খুব ভালো হইছে৷ শুধু পা ভাঙলো কেন, মাথা ফাটলে খুশি হইতাম।’
কারোর দাদা মারা গেলে সেই পোস্টে স্যাড হয়ে ইন্না-লিল্লাহ কমেন্ট না করে লিখুন, ‘সব দোষ আপনার দাদার। ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিলে তো মরতো না। আমার দাদার বয়স আরো তিন বছর বেশি, সে তো ঠিকই বেঁচে আছে। আগেরকালের ছেলেপেলের কোনো কাজই হয়না। ফালতু সব।’
.

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category