1. rashrafulofficial@gmail.com : Asraful Islam : Asraful Islam
  2. vorernews.info@gmail.com : admi2017 :
  3. allensumon19@gmail.com : allen sumon : allen sumon
  4. mehrazkhanopy159@gmail.com : Admin4 :
ভালো ছেলেরা প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেলে কি করে? Part 2 - VorerNews.com

ভালো ছেলেরা প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেলে কি করে? Part 2

  • Update Time : Thursday, February 11, 2021
  • 8 Time View

ইমন বাসায় এসে গোসল করে চুলে ঠান্ডা কদুর তেল দিয়ে তনিমাকে ভুলে গেলো। তারপর দুপুরে খেতে বসে মনে হলো এইসব ভাত তরকারি খেয়ে বেঁচে থাকা শুধু শুধু। যে জীবনে তনিমা নেই, সেই জীবনের আসলে কোনো দামই নেই। একগাদা ভাতের মধ্যে হাত ধুয়ে উঠে পড়লো ইমন। মন বসলো না দেয়ালে টাঙানো রুটিন অনুযায়ী দুপুরের কেমিস্ট্রি বইএর পাতাতেও। পুরো বই জুড়ে শুধু একটাই মুখ। তনিমা। ইমন কেমিস্ট্রির বিক্রিয়ার বদলে খাতায় দুই লাইন কবিতা লিখলো, ‘
‘তোমার কাছে পানসে ভীষন, ক্যাটরিনা আর সোনম;
তোমায় ভেবে কাটিয়ে দিবো একুশখানা জনম।’
.
ইমনের আব্বু আম্মু প্রচন্ড অবাক হয়ে দেখলো তাদের ছেলে প্রথমবারের মতো বিনা কারনে অনুমতি ছাড়াই ভর দুপুরে ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
.
সুতরাং রাত একটার দিকে ইমনকে তনিমার বাসার সামনে ল্যাম্পোস্টের আলোর নিচে দাঁড়িয়ে চুপচাপ ঘুমে ঢুলতে দেখা গেলো। রাত জাগার অভ্যাস না থাকলে ঘুম তো আসবেই, আহারে বেচারা! ভাবলো তনিমা। ইমনের পরনের জিন্স প্যান্ট আর টিশার্ট। গলায় হোয়াইট গোল্ডের চেন। হাতে ব্রেসলেট। ডেভিড বেকহামের মতো চুলের কাটিংএ তাকে যথেষ্ট মদন মদন লাগছে। সেটা দেখে হাসির বদলে কেন জানি, তনিমার চোখে পানি চলে আসলো।
.
পরদিন ক্যাম্পাসের সবাই তাদের জীবনের সবচাইতে আশ্চর্যজনক ঘটনা চোখের সামনে দেখলো। ইমন নামের অতি নম্র ভদ্র, শান্ত শিষ্ট ছেলেটা ক্লাস চলাকালীন ক্যান্টিনে বসে চা আর সিগারেট খাচ্ছে। সামনে নতুন ভর্তি হওয়া অনিন্দ্য সুন্দরী এক মেয়ে।
ইমন সিগারেটে টান দিয়ে তনিমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, ‘কে বলে শারদশশী সে মুখের তুলা, পদনখে পড়ে আছে তার কতগুলা।’
তনিমা অবাক হলো, ‘মানে কি এর?’
‘এর মানে হলো, ‘কে বলেছে তোমার মুখ শরতের চাঁদের মতন? মুখ তো দূর, এরকম কয়েকটা চাঁদ তোমার পায়ের নখের কাছে পড়ে থাকবে।’
তনিমা হাসলো।
ইমন বললো, ‘আচ্ছা সবাই যেখানে ভালো ছেলে পছন্দ করে, তোমার সেখানে উলটা কেন? তুমি কেন খারাপ ছেলে পছন্দ কর?’
তনিমা মাথা নাড়লো, ‘জানিনা।’
‘উহু, তুমি সব জানো।’
‘আচ্ছা দেখ, পছন্দ জিনিসটার কোনো ব্যাখ্যা হয় না। তোমার চিংড়ী মাছ পছন্দ, কিন্তু কেন পছন্দ জানো?’
ইমন মাথা নাড়লো।
তনিমা বললো, ‘আমার ব্যাপারটাও এরকম।’


.
পরবর্তী দুই বছরে ভার্স্টিটির অন্যতম মাস্তান হিসাবে ইমন বেশ ভালো একটা জায়গা তৈরি করে ফেললো। ততদিনে তার লেখাপড়ার অলমোস্ট বারোটা বেজে চল্লিশ মিনিট। সে আদৌ পাশ করে বের হতে পারবে কিনা, তার কোনো গ্যারান্টি নাই। তবে ক্যাম্পাসে ইমন- তনিমা জুটি বিশাল বিখ্যাত। নতুনদের জন্য একেবারে প্রেমের রোল মডেল।
.
তারপর যা হওয়ার ছিলো ঠিক তাই হলো। এক বিকালে ক্যাফেটেরিয়ায় সামনের চেয়ারে বসে পেস্ট্রি খেতে খেতে তনিমা বলল, ‘আব্বু আমার বিয়ে ঠিক করেছে। ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। সামনের সপ্তায় পাকা কথা হবে। তুমি প্লিজ কিছু একটা করো।’.
তনিমার আব্বু ইমনের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো, ‘তোমাকে আমার পছন্দ না।’
ইমন এখন আর আগের ইমন না যে চুপচাপ মেনে নিবে। সে জানতে চাইলো, ‘কেন পছন্দ না?’
তনিমার আব্বু বললো, ‘সেটা তুমি খুব ভালো করেই জানো। তুমি একটা বখাটে মাস্তান ছেলে। লেখাপড়া করোনা। রেজাল্টের অবস্থা খারাপ। মারামারি করে বেড়াও। আয়নায় নিজের চেহারা দেখেছ? চুলের কাটিং দেখলে বমি আসে। আমি আমার মেয়ের জন্য একটা নম্র ভদ্র, শান্ত ছেলে চাই। যে কখনো মারামারি করেনি। ঠিকমতো লেখাপড়া শেষ করে পাশ করে এখন চাকরী করছে। কখনো মেয়েদের সাথে প্রেম ভালোবাসায় জড়ায়নি। সিগারেট খায় না। স্মার্ট, বিনয়ী, সচ্চরিত্রবান। তুমি এগুলোর একটাও না। সুতরাং আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাও। আমি আর কখনো তোমাকে এই বাড়ির আশেপাশে দেখলে অবশ্যই পুলিশে দিবো।’
.
ইমনের লাইফটা হয়ে গেছে পুরা প্যারাডক্স। বাপের যেমন ছেলে পছন্দ, ইমন একসময় ঠিক তেমনই ছিলো। সেইভাবে থাকলে এখন নির্ঘাত তনিমার বাবা ওকে পছন্দ করতেন কিন্তু সেক্ষেত্রে তনিমার সাথে ওর প্রেমটাই তো হতো না। প্রেমের জন্য তাই তনিমার পছন্দমত হতে গিয়ে এখন আবার তার বাবার অপছন্দ হতে হচ্ছে। শালা জীবন। রাগে- দুঃখে ইমনের ইচ্ছা হচ্ছে সব ভেঙেচুরে শেষ করে ফেলতে।
.
তনিমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে আলোকসজ্জায় সাজানো বাড়িটা যতবার দেখে ততবার ইমনের বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে ওঠে। একটার পর একটা সিগারেট টানতে থাকে। সিগারেটের হালকা আলোতে ইমনের চোখের পানি জ্বলজ্বল করে জ্বলে। হঠ্যাৎ বুদ্ধি আসলো মাথায়। আরেকবার ভালো হয়ে গেলে কেমন হয়? যেই ভাবা সেই কাজ। সিগারেট ফেলে দিয়ে পাশের সেলুনে গিয়ে ঢুকলো ইমন।
.
তনিমার বাবা তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো, ‘মজা করো তুমি? চুল কেটে ভদ্র জামাকাপড় পড়লেই মানুষ ভালো হয়ে যায়? জামাকাপড় দেখে আমি তোমাকে পছন্দ করবো? ফান করো আমার সাথে? তোমার রেজাল্ট কই? জব কই? আমি কি পুলিশে ফোন করবো নাকি তুমি নিজেই চলে যাবা এখান থেকে।’
.
.
ইমন গত তিনদিন ধরে বাসাতেই আছে। খাওয়া ঘুম গোসল ছেড়ে দিয়েছে একদম বলা চলে। তার কিচ্ছু ভাল্লাগেনা, কিচ্ছু না। তনিমা অন্য একটা ছেলের হয়ে যাবে সেটা কিভাবে সম্ভব? কিভাবে! ইমনের বুকের মধ্যে সবকিছু ভেঙেচুরে যায়, সবকিছু। সে তনিমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না। সে অবশ্যই সুইসাইড করবে। ফ্যানের সাথে একটা লম্বা দড়ি ঝুলিয়ে ফাস বানায় ইমন।
.
ফাস নিতে যাবে এমন সময় ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় চোখ পড়ে ইমনের। বানানো প্যান্ট আর চেক শার্টে তখনও ভদ্র ছেলে হয়ে আছে সে। চুল সুন্দরভাবে আচড়ানো। ডানপাশে সীথি কাটা। সেটা দেখে কিছু একটা ভাবলো ও।
.
ফ্যান থেকে ফাসটা খুলে ফেললো ইমন। খাট থেকে নেমে এসে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। মাথার চুল এলোমেলো করে দিলো। গলায় হোয়াইট গোল্ডের চেনটা পরলো ড্রয়ার থেকে বের করে। শার্ট খুলে ছুড়ে ফেলে একটা টিশার্ট গায়ে চাপালো। বানানো প্যান্ট বদলে জিন্সের প্যান্ট পরলো। সিগারেট ধরিয়ে লম্বা একটা টান দিয়ে হাসলো হাহা করে। তারপর হাসতেই থাকলো, হাসতেই থাকলো।
.
.
পরিশিষ্ট:
– ভালো ছেলেরা প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেলে কি করে?
– খুব কষ্ট পায়। কান্নাকাটি করে। তারপর একসময় ভুলে যায়। কেউ কেউ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে।
– আর খারাপ ছেলেরা?
– তারা বিয়ের আসর থেকে প্রেমিকাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
– হুম, এজন্যই আমার খারাপ ছেলে পছন্দ। বুঝছো এবার? ইমনের কাধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলো তনিমা।
.
ঢাকা টু চট্টগ্রামের ট্রেনটা তখন ছুটে চলেছে ঝিক ঝিক শব্দে।
.
.
#খারাপ_ছেলে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category