• E-paper
  • English Version
  • সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

সমঝোতার পরও সাকিব-মুশফিকদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৮৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ১৩ দফা দাবি দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। এর মধ্যে ১০টি দাবি মানার ঘোষণা দেওয়ার পর বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন বাকি তিনটি দাবিরও সমাধানের আশ্বাস দেন। বোর্ড সভাপতির কথায় সাকিব আল হাসান আশাবাদী, বিসিবি দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় দুই পক্ষের এই সমঝোতায় শেষ হয় তিনদিন ধরে চলা দেশের ক্রিকেটের অচলাবস্থা। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এই বৈঠকের পর বোর্ড পরিচালক ও সাংবাদিকরা বের হয়ে গেলে আবারও সাকিব-তামিমরা একসঙ্গে বসেন, একঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তারা।

ভারত সফরের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্প দিয়ে শুক্রবার মাঠে ফেরার ঘোষণা দেন ক্রিকেটাররা। আন্দোলন স্থগিত করার পরও আবারও কেন বৈঠকে বসতে হলো? এই প্রশ্ন মনে জাগতেই পারে। উত্তর খুঁজতে একঘণ্টা অপেক্ষা শেষে জানা গেলো, সাকিব-মুশফিকরা যেসব দাবি বিসিবির কাছে উত্থাপন করেছেন, সেগুলো যেন ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয় সেটা নিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন সেখানে। গত তিনদিনের ঐক্য যেন ভবিষ্যতেও বজায় থাকে, সেটাও ছিল তাদের আলোচনার বিষয়।

প্রথম শ্রেণির পাশাপাশি প্রথম বিভাগ খেলা প্রায় একশ ক্রিকেটার এসেছিলেন বোর্ড প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে। তাদের সামনে রেখেই বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। অবশ্য সেগুলো বাস্তবায়ন আদৌ হবে কিনা সেটা নিয়ে ছিল অনেক ক্রিকেটারের মধ্যে শঙ্কা। এই শঙ্কা দূর করতে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সাকিব-মাহমুদউল্লাহদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা।

মঙ্গলবার দুই পক্ষের বৈঠকের পর সাকিবদের মুখে ছিল হাসি, কিন্তু কিছুটা বিমর্ষ দেখা গেছে স্থানীয় ক্রিকেটারদের। ১৩ দফার চার নম্বর দাবি ছিল জাতীয় লিগের ম্যাচ ফি এক লাখ টাকা করা। এটা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সাকিবও সংবাদ সম্মেলনে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

সাকিবের কাছে এনিয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছিল− জাতীয় লিগের ম্যাচ ফি এক লাখ করার দাবি ছিল, সেটা এখন কত টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে? উত্তরে সাকিব বলেছেন− ‘আসলে বলেছিলাম, প্রশ্ন করলেই উত্তর দেওয়া মুশকিল।’ এরপরই উঠে যান তিনি। তার এমন উত্তরে স্থানীয় ক্রিকেটাররা পড়ে যান দ্বিধায়। তাই তো অচলাবস্থা কেটে যাওয়ার পরও একঘণ্টার বৈঠক করতে হয়েছে ক্রিকেটারদের।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সব সময়ই কাছে পাবেন বিসিবি। সাকিব-তামিমরা যেন কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়, এই নিশ্চয়তা পেতে তাদের সঙ্গে বসেছিলেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিনিয়র এক ক্রিকেটার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা সব সময়ই চাই ক্রিকেটের উন্নতি হোক। এই কারণেই আমরা একত্রিত হয়েছি। আশা করি ভবিষ্যতে আমাদের এই ঐক্য ঠিক থাকবে, যাতে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়। এই কারণেই আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। সাকিব-তামিমরা সব সময়ই বোর্ডের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবে। তারা যেন কোনও কিছুতে প্রভাবিত না হয়। আমাদের দাবিগুলো যেন বাস্তবায়ন হয়।’

একঘণ্টার সভাতে এইসব আলোচনা ছাড়া নিজেদের দাবিগুলো নিয়েও পর্যালোচনা করেন তারা। এক তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আবারও আলোচনা করেছি। আমরা যারা জাতীয় দলের বাইরে আছি, তাদের অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেই বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে সাকিব ভাইদের। আমাদের ঐক্য যেন ঠিক থাকে, সেই ব্যাপারে কথা হয়েছে।’

ক্রিকেটারদের দাবি দাওয়া আদায়ের প্ল্যাটফর্ম ছিল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। কিন্তু সেটা অকার্যকর বলেই সাকিবদের সংগঠিত হয়ে ধর্মঘটের ডাক দিতে হয়েছে। কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি প্রথম বিভাগের ক্রিকেটাররা একত্রিত হয়ে আন্দোলন করেছেন। ভবিষ্যতে নতুন কোনও ইস্যুতেও যেন ক্রিকেটারদের ঐক্য বজায় থাকে−এমনটিই ছিল ক্রিকেটারদের একঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মূল বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..