• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

মৃদু সৌরভের মতো ভালো লাগা

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১৮
  • ১৬১ বার পঠিত

এ যুগে লোকে নাকি আর সেভাবে প্রেমে পড়ে না। প্রেমে পড়া বলতে প্রেমে ‘পড়া’ই বোঝানো হচ্ছে। মানে পতন। কথাটা বলেছেন এ কালের জনপ্রিয় দার্শনিক স্লাভোই জিজেক। তাঁর মতে, একটা মেয়ে ও ছেলে যখন দৈবচক্রে মুখোমুখি হয়ে বিদ্যুৎতাড়িতের মতো বুঝতে পারে, আরে, এর জন্যই তো এতকাল অপেক্ষায় ছিলাম—তখন সেটাকে বলতে হবে প্রেমে পড়া। তখন দুজনেরই সাজানো জগৎ ওলট-পালট হয়ে যায়, গৌণ হয়ে যায় বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা, অফিস-পেশা, সমাজ-সামাজিকতা। প্রেমে পড়া মানুষের জগৎ ভেতর থেকে বদলে যায়। এ জন্য সব ভাষাতেই প্রেম হওয়ার ব্যাপারটাকে ‘প্রেমে পড়া’ বলে। ইংরেজিতে যেমন বলে, ফল ইন লাভ।

তা, এ যুগে লোকে আর প্রেমে পড়ে না কেন? কারণ, সবার মধ্যে নাকি এখন একটা প্রেম-ভীতি ভর করেছে। আমরা প্রেমে পড়তে ভয় পাই। ওই যে পতনের বেদনা, সাজানো জগৎটা লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার ঝক্কি—আমরা সতর্ক আধুনিকেরা আর সেটা পোহাতে রাজি নই। ঠিক যেমন করে আমরা মিষ্টি খেতে চাই চিনি ছাড়া, দুধ খেতে চাই ননি ছাড়া, ঠিক তেমনি আমরা পতনের আঘাতহীন নিরাপদ প্রেম প্রত্যাশা করি। এ কারণে জিজেক মনে করেন, একালে সম্পর্কই হয় কেবল, প্রেম আর হয় না।
ফরাসি দার্শনিক জাঁক দেরিদার কাছে এক সুন্দরী সাক্ষাৎকারগ্রহীতা যখন জানতে চেয়েছিলেন, প্রেম ব্যাপারটাকে তিনি কীভাবে দেখেন? দেরিদা কৌতুকচ্ছলে বলেছিলেন, ‘আমি কি প্রেম শুনলাম, নাকি মৃত্যু?’
দেরিদার ঠাট্টা তবু নেওয়া যায়, জিজেকের কথাটা মানা যায় না কিছুতেই। দেখেশুনে মনে হয়, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে একালে মানুষ প্রেমে আরও বেশি বেশি করে পড়ছে, পড়তে পারছে, পড়ার উপযুক্ত পরিস্থিতির মধ্যে সারাক্ষণই বিরাজ করছে। একালে বিদ্যায়তন আর কর্মক্ষেত্রেই শুধু নারী ও পুরুষকে কাছাকাছি এনে দেয়নি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দুনিয়ার সব মানুষকে যেন পাশাপাশি এক টেবিলে বসিয়ে দিয়েছে, মাউসের এক-ক্লিক দূরে বড় গা ঘেঁষাঘেঁষি করে আছি আমরা। একালে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার চেয়েও দ্রুতবেগে প্রেম হয়ে যেতে পারে, হয়ে যায়।
এ কারণে যে বাঁধভাঙা প্রেমের অনুপস্থিতিতে জিজেক হা-হুতাশ করছেন, আমাদের বরং সেটার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয়। সামাজিক মানুষ সদা সতর্কই থাকেন। জগতের ভারসাম্যে তিনি টোকা দিতে চান না। ঘরে-না-থাকা-উচাটন-মন নিয়ে তিনি ঘুরে বেড়ান বটে, তবে সারাক্ষণই বিড়বিড় করে বলেন, ডু আই ডেয়ার ডিস্টার্ব দ্য ইউনিভার্স?

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..